অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, আসন্ন গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘না’ ভোট মানে কেবল একটি মতামত নয়, বরং তা অতীতের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের মানুষ যে দমন-পীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, তার প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো পরিবর্তন। তিনি বলেন, “যারা সন্তান হারিয়েছে, যারা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটিয়েছে, সেই মানুষগুলো আর আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।”
গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ কেন রাখা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই এই সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, জনগণের সামগ্রিক চেতনা পরিবর্তনের পক্ষেই অবস্থান নেবে। “গণতন্ত্রে প্রত্যেকের মতামতের মূল্য আছে। কেউ ‘না’ দিতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের সামনে সত্যটা স্পষ্ট করাও জরুরি,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার জন্য এবং তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অপরিহার্য। “হাজারো তরুণের ত্যাগ এবং অসংখ্য মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরা যাবে না,” যোগ করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন গণভোট ও নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও জনসচেতনতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।


