আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানে পদত্যাগের খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, টবি ক্যাডম্যানকে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক বছরের জন্য বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার দায়িত্ব স্বাভাবিক নিয়মেই শেষ হয়েছে, এটি কোনো পদত্যাগের ঘটনা নয়।
তিনি আরও জানান, শুরুতে সরকার ক্যাডম্যানের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। এ বিষয়ে টবি ক্যাডম্যান নিজেও আগ্রহ প্রকাশ করে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে সরকারের বর্তমান মেয়াদ যেহেতু খুব অল্প সময়ের জন্য রয়েছে, তাই এ মুহূর্তে নতুন কোনো চুক্তিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর আগে ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে টবি ক্যাডম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশে আসেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে এবং পদত্যাগের খবরটি ভিত্তিহীন।


