আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আজ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুপুরে নির্ধারিত এই বৈঠককে তফসিল ঘোষণার পূর্ববর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর আজ সন্ধ্যায় বা বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে সিইসির রেকর্ডকৃত ভাষণ প্রচার করা হবে, যেখানে ঘোষণা করা হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আজ তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা কম; বৃহস্পতিবারই সম্ভাব্য তারিখ। আর ভোট গ্রহণ হতে পারে আগামী ১১ বা ১২ ফেব্রুয়ারি।
তফসিল ঘোষণা সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনে চলছে টানা প্রস্তুতি ও একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠক। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিইসি ও অন্যান্য কমিশনাররা বারবার বৈঠকে বসে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ যাচাই করেন। এর মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর গেজেট প্রকাশিত হলেও আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী এখনো জারি হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, আসন বিন্যাস, মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল ও আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত রয়েছে, যা তফসিল ঘোষণার পর ধারাবাহিকভাবে জারি করা হবে।
এদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি এবং অনুকূল পরিবেশ নির্বাচন আয়োজনকে সহজ করবে। তবে আচরণবিধি মানতে ব্যর্থ হলে ইসির চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে এবার একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি করে ভোট দেওয়ার স্থান তৈরির কাজ চলছে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাও চালু করেছে ইসি।


