বিটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থান ধরে রাখা কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এখনো কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক প্রতিবেদনে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য উঠে এলেও রহস্যজনক কারণে সেই প্রতিবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে থেমে আছে। ফলে বিটিভিকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
তথ্য মতে, বিটিভির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনে থাকা মো. মনিরুল ইসলাম সরকারি প্রকল্পে কারচুপি, ঠিকাদারি বিল অগ্রিম ছাড় এবং ঘুস লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব তথ্য গত বছর দুদকের অনুসন্ধানেও উঠে আসে। একইভাবে ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরিসহ নানা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইন— যিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত—তার বিরুদ্ধেও সরকারি আদেশ ছাড়া অনুষ্ঠান প্রযোজনা, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যয় অনুমোদন এবং দাপ্তরিক শিষ্টাচার ভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত কমিটির সাত পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম স্পষ্ট উল্লেখ করা হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ে আলোর মুখ দেখছে না।
অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ভেতরের একটি প্রভাবশালী চক্র এসব কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতির করে রেখেছে। ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তেই ক্ষমতাশালী অবস্থান ধরে রাখছেন। শিল্পী, কলাকুশলী ও সাধারণ কর্মচারীরা বলছেন, বিটিভিতে দুর্নীতির যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে প্রশাসনের সদিচ্ছা জরুরি; কিন্তু এখনো তার কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।


