বেক্সিমকো ফার্মার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ আলী নাওয়াজ বলেছেন, কোম্পানিটির ঋণসংক্রান্ত নানা অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউ কেউ প্রচার করেছে যে, বেক্সিমকো ফার্মার ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ ছিল এবং তা পুনঃতফসিল করা হয়েছে—যা মোটেও সত্য নয়। বাস্তবে কোম্পানিটির ইতিহাসে চলতি ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ৬০০ কোটি টাকা, আর বর্তমানে মোট ঋণ মাত্র দেড়শ কোটি টাকারও কম।
তিনি বলেন, “আমাদের বার্ষিক রাজস্ব ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে দেড়শ কোটি টাকার ঋণ অত্যন্ত নগন্য। কোনো ঋণই অনিয়মিত নয়, বরং ইতিহাসে একবারও কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হইনি।”
জনতা ব্যাংকের সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মার ওভারড্রাফট ফেসিলিটি রয়েছে ৬০০ কোটি টাকা এবং এলসি ফেসিলিটি ৭০০ কোটি টাকার, যার পূর্ণ ব্যবহার হয় কাঁচামাল আমদানিতে। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের ৩৭৫ কোটি টাকার একটি ঋণ নেওয়া হয়েছিল সানোফি অধিগ্রহণের সময়, যার বর্তমান বকেয়া ৮৩ কোটি টাকা এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলী নাওয়াজ আরও বলেন, বেক্সিমকো ফার্মা একটি কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান, তাই এক কোম্পানির মুনাফা অন্য কোম্পানিতে স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই। “বেক্সিমকো ফার্মা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান আমাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করে,” তিনি যোগ করেন।
ওষুধ রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বেক্সিমকো ফার্মা বর্তমানে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে ২৫০ ধরনের ওষুধ রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্র কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে ২০টি ওষুধের নিবন্ধন রয়েছে এবং বর্তমানে ৮টি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোম্পানিটির আয় প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রভাব প্রসঙ্গে নাওয়াজ বলেন, পেটেন্ট ছাড় বাতিল হলে নতুন ওষুধ উৎপাদনে লাইসেন্স ও রয়্যালটি দিতে হবে, যা কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং ওষুধের দাম বাড়াবে।
তিনি জানান, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেক্সিমকো ফার্মা ইতোমধ্যে দুটি বহুজাতিক কোম্পানি—নোভিস্তা ফার্মা ও সাইনোভিয়া ফার্মার শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বায়োলজিকস, বিশেষ করে অ্যান্টি ক্যানসার ও অ্যান্টি ডায়াবেটিস ওষুধ উৎপাদনে কোম্পানিটি বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।
“আমরা চাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নিজস্বভাবে এন্টি-ক্যান্সার ওষুধ বাজারে আনতে,” বলেন বেক্সিমকো ফার্মার সিএফও।


