সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে ২৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারক মোতাল্লেছ হোসেনের নাম উঠে এসেছে। তিনি কখনো নিজেকে বড় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, আবার কখনো রাজনৈতিক দলের লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা, কেউ কেউ মুখ খুলতে পারছেন না সম্মানহানির ভয়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও অনুসন্ধান জানা গেছে, মোতাল্লেছ হোসেন এবং তার ভাই সম্মিলিতভাবে একটি প্রতারণা ও চাঁদাবাজি চক্র পরিচালনা করেছেন। তারা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছেন।
গত বছরের নভেম্বর থেকে সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় তার একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। মাত্র তিন মাসে ওই হিসাব থেকে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হয়। এছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকে আরও কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি আয়কর রিটার্নে মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
মোতাল্লেছ হোসেনের ভাই মোদাচ্ছের হোসেনের মালিকানাধীন এমএল এন্টারপ্রাইজের হিসাবেও ৬ মাসে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স জাল ঠিকানায় নেওয়া হয়েছে।
মোতাল্লেছ হোসেন বর্তমানে পল্লবীর বাসা থেকে পালিয়ে রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো প্রতিহিংসার ফল এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তার অপকর্ম। তবে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশ্চিত করেছেন, তার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই এবং ব্যাংক হিসাবের নমিনি হওয়ার বিষয়টি জানতেন না। বিএফআইইউর প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে, যে কোনো সময় প্রতারণার এ চক্রের বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।


