দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুবিধা। বিশেষ করে আবাসন সংকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৫০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসা বা মেসে থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ-মাদ্রাসা ছাড়া ২০২৩ সালে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আবাসিক সুবিধা পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ১৭ হাজার জন। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাননি। বর্তমানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হল, হোস্টেল ও ডরমিটরি সংখ্যা ২৬২টি।
পরিসংখ্যানে আরও জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা মাত্র ৪৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫ শতাংশ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেন। তবে জগন্নাথ, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুরের বেগম রোকেয়া ও গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
অন্যদিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা আছে। এছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৬ শতাংশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। হলের বাইরে থাকায় তাদের অতিরিক্ত ভাড়া, যাতায়াত খরচ, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো ঝুঁকি বহন করতে হয়। নারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ এ বিষয়ে বলেন, *“আবাসন সংকট বহুদিনের সমস্যা। এটি সমাধান করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। ইউজিসিও এতে সহযোগিতা করবে।”* শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, আবাসন সমস্যার সমাধান ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


