Friday, July 17, 2026
Home জাতীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটে ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটে ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুবিধা। বিশেষ করে আবাসন সংকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৫০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসা বা মেসে থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ-মাদ্রাসা ছাড়া ২০২৩ সালে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আবাসিক সুবিধা পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ১৭ হাজার জন। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাননি। বর্তমানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হল, হোস্টেল ও ডরমিটরি সংখ্যা ২৬২টি।

পরিসংখ্যানে আরও জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা মাত্র ৪৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫ শতাংশ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেন। তবে জগন্নাথ, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুরের বেগম রোকেয়া ও গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

অন্যদিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা আছে। এছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৬ শতাংশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। হলের বাইরে থাকায় তাদের অতিরিক্ত ভাড়া, যাতায়াত খরচ, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো ঝুঁকি বহন করতে হয়। নারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ এ বিষয়ে বলেন, *“আবাসন সংকট বহুদিনের সমস্যা। এটি সমাধান করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। ইউজিসিও এতে সহযোগিতা করবে।”* শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, আবাসন সমস্যার সমাধান ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

বন্যাদুর্গত ৫ জেলার কৃষকদের বীজ ও ধানচারা দেবে সরকার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকদের পুনর্বাসনে ধানের বীজ ও চারা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।...

ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে জুলাইকে ব্যবহার করতে দেব না’: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হতে পারে না। তিনি...

গ্রামের অসচ্ছল পরিবার কম দামে পাবে এলপিজি

দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং...

পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে’: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে...

Recent Comments