২০২২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিওর মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। অর্থ হাতে পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ব্যয় করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা করতে পারেনি কোম্পানিটি। এজন্য দুই দফা আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বর্ধিত এ সময় শেষ হওয়ার আগেই কোম্পানিটি আইপিও তহবিলের ৯৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে জমা দেয়া তহবিল ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে কোম্পানিটির সাধারণ সেবা সুযোগ-সুবিধা খাতে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৪২৩ ও আইপিওর খরচ খাতে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৬৮ টাকা ব্যয় করেছে। ফলে কোম্পানিটির আইপিও তহবিলে এখনো অব্যবহৃত রয়েছে ২৪ লাখ ৩০ হাজার ৭০৯ টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) জেএমআই হসপিটালের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৮৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে জেএমআই হসপিটালের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৯৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে জেএমআই হসপিটালের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ১২ পয়সায়।
জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি।
২০২২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জেএমআই হসপিটালের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ১২০। এর ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৩ দশমিক ৩৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


