বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সম্প্রতি ইসকনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসকন বাংলাদেশে এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “একটা সংগঠন সম্প্রতি এমন কিছু করছে, যা আমার মনে হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা থাকলেও সেখানে তারা এই ধরনের আন্দোলন করে না। অথচ বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন সরকার আসার সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে তারা এই আন্দোলনের ডাক দিল। এটা কেন?”
তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও নিপীড়ন হলেও তারা তখন কোনো প্রতিবাদ করেনি। অথচ এখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে রেখে তাদের এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
ভারতের সঙ্গে ইসকনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নজরুল। তিনি বলেন, “তারা বাংলাদেশের মানুষ হয়েও ভারতের সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এটা কি বোঝায় যে বাংলাদেশ অন্য কারও অধীনে রয়েছে? আর তারাও (ভারত) বিবৃতি দেয়। এটা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ।”
বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে নজরুল বলেন, “জুলাই ও আগস্ট মাসে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে কোনো বিবৃতি দেখিনি। একজনকে গ্রেফতার করলে বিবৃতি দেওয়া হয়, কিন্তু হাজারো মানুষের মৃত্যুতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। এটি দ্বিমুখী নীতি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মোহাম্মাদ আজম খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং যুগ্ম মহাসচিব মুফতি এনায়েত উল্লাহ হাফেজজী।
নজরুল ইসলাম খানের এই মন্তব্যে ইসকনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তার বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।


