দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। স্কয়ার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে পাবনা প্রেস ক্লাবে তার জীবনী নিয়ে আলোচনা এবং বিকালে বৈকুণ্ঠপুর বাংলো বাড়িতে সমাধিস্থলে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রয়াত হন স্যামসন এইচ চৌধুরী। এরপর গত এক দশকের বেশি সময়ে স্কয়ার গ্রুপের ব্যবসার আকার বেড়েছে বহু গুণ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে স্কয়ার গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার ছিল প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রজন্মের এ সাফল্যের পর প্রতিষ্ঠানটিতে এখন যুক্ত হয়েছেন তৃতীয় প্রজন্ম। এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্যোগে এখন কর্মী সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি।
স্কয়ার গ্রুপের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মী জানিয়েছেন, স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন উদ্যোক্তা। ব্যবসাজীবনের পথযাত্রায় অনেক বিষয়ে তার ভবিষ্যদ্বাণী পরবর্তী সময়ে বাস্তব হয়েছে। স্মৃতিচারণ করে সাবেক কর্মীরা বলেছেন, ব্যবসাসংশ্লিষ্ট প্রচুর বই পড়তেন তিনি। বিশ্বের কোথায় কোন ওষুধ বেশি চলছে, কোন চিকিৎসকদের কাছে কী ধরনের প্রডাক্ট বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে—এ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তৃত ও গভীর ধারণা রাখতেন তিনি। নিজে পড়ার পাশাপাশি কর্মীদেরও পড়তে উৎসাহ দিতেন স্যামসন এইচ চৌধুরী।
সাবেক এক কর্মী বলেন, ‘স্কয়ারের অনেক ওষুধপণ্যের ব্র্যান্ড নেম স্যামসন এইচ চৌধুরীর দেয়া। কর্মীদের কাজ করার সুযোগ ও স্বাধীনতা দিতেন তিনি। তার সুদূরপ্রসারী মনোভাবের প্রতিফলন পাওয়া যায় সন্তানদের নিয়ে তার পরিকল্পনায়। তপন চৌধুরী (স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সন্তান বলেই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাবেন, এমন ধারণাবিমুখ ছিলেন তিনি। ফলে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন সন্তানকে কাজ করিয়ে গোটা বিষয়টি আয়ত্তে আসার পরই তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সন্তানদের তিনি বাধ্য করতেন হাতেকলমে ব্যবসা বুঝে নিতে।’


