উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যা একটি নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর হবে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন অধ্যাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। নতুন অধ্যাদেশে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য একটি ছয় সদস্যের কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধান বিচারপতি, এবং এতে আপিল বিভাগের দুজন বিচারক (একজন অবসরপ্রাপ্ত ও একজন কর্মরত), হাইকোর্টের দুজন বিচারক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই কাউন্সিলটি বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, যেখানে প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ, যাতে উচ্চ আদালতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করার সুযোগ থাকবে সাধারণ মানুষের জন্যও, যেকোনো আইনজীবী বা নাগরিক নিজের ইচ্ছায় কাউন্সিলে আবেদন করতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারের সময় উচ্চ আদালতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অদক্ষ ব্যক্তি বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। এই পরিবর্তনের ফলে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং দেশের ১৭ কোটি মানুষের মানবাধিকার রক্ষিত হবে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় এবং স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় আরও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে এবং বিচারকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।এই উদ্যোগের ফলে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল হবে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে।


