সেন্টমার্টিন, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিছু মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার সেন্টমার্টিন বিদেশি কোনো দেশের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, সেন্টমার্টিনকে লিজ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রধান উপদেষ্টা’র প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকিং পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, কিছু মহল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস দীর্ঘদিন ধরে চলছে, কিন্তু এটির সঙ্গে সেন্টমার্টিনের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, এই টকসকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা ভিত্তিহীন।
এদিকে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশগত অবস্থার বিষয়ে গবেষণা সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভান্স’ এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দ্বীপটির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সেন্টমার্টিনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ, এবং কচ্ছপের আবাস ধ্বংসের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ২০ ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।
বর্তমানে দ্বীপটিতে একটি নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি হল মারাত্মক ক্ষতিকারক সাদা মাছির উৎপাত। এই মাছিগুলো দ্বীপের গাছপালার জন্য ক্ষতিকর এবং গত কয়েক মাসে ৩০০ নারকেল গাছ মরে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্টমার্টিনের এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত অপরিকল্পিত পর্যটন দায়ী।
ফেসবুকে এক পোস্টে আরও জানানো হয়েছে, সেন্টমার্টিনের ৪১ শতাংশ প্রবাল ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে। যদি এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকে, তবে ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপের সব প্রবাল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং দ্বীপটি জলাবদ্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে সরকার সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জরুরি। সমাজের প্রতিটি স্তরকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে যাতে এই প্রাকৃতিক সম্পদ আগামী প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখা যায়।


