বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পুঁজিবাজারে সম্ভাব্য কারসাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার, তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়ে তদন্ত করে বিএফআইইউ। তদন্ত শেষে সরকারের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে জানান, সাকিব আল হাসানের সব ব্যাংক হিসাব এখন বন্ধ। সাকিবের কাছে সব তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছিল, যা বিএফআইইউ বিশ্লেষণ করেছে। উল্লেখ্য, এ সিদ্ধান্তটি মূলত পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় সাকিবের দেশের বাইরে থাকাও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে না খেলার ঘোষণা দিয়েছেন। তবুও পরিস্থিতি অনুযায়ী তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক টেস্ট ও টি টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
সাকিবের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং সংসদ সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতাও এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনে নিজ জেলা মাগুরার একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সংসদ সদস্য হন। তবে ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ফলে সংসদ সদস্যের পদও হারান সাকিব। সেই থেকেই তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফেরার তারিখ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সাকিবের এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আর্থিক পরিচালনা কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা নিয়েও ক্রিকেট ভক্ত ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা।


