Sunday, June 14, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য সপ্তাহের ব্যবধানে নিম্নমুখী বেশিরভাগ পণ্যের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে নিম্নমুখী বেশিরভাগ পণ্যের দাম

রমজান শুরুর দুদিন আগে, গত শুক্রবার বাজারে বেড়েছিল বেশ কিছু পণ্যের দাম। এক সপ্তাহ বাদে এখন সেসব পণ্যের দাম কিছুটা কমে এসেছে। সেসব পণ্য ছাড়াও এবার রোজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল শুরু থেকেই। সব মিলিয়ে বাজারে তেমন বড় কোনো অসংগতি নেই।

রোজার শুরুতে সয়াবিন তেলের যে সরবরাহ সংকট ছিল তাও এখন কমেছে। সব দোকানে খোলা সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোথাও কোথাও বোতলজাত তেলের সরবরাহে এখনো কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে।

মালিবাগ বাজারে কামাল ট্রেডার্সের জসিম বলেন, খোলা সয়াবিন আছে, বোতলজাত তেলও এখন দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। তবে চাহিদার তুলনায় কম। আগে যে তেল পাওয়াই যাচ্ছিল না, এখন তেমন আর নেই। শুক্রবার রাজধানীর আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু-শসা বা বেগুনের মতো বাড়তি চাহিদার পণ্যগুলোর দামও কমছে। আগে বেগুন ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর হালি ৪০ টাকা ও শসা ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া অন্যান্য সবজির বাজার আছে আগের মতোই। করল্লা আর ঢেঁঢ়স ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দর কমেছে। প্রতি কেজি করল্লা ৬০-৮০ এবং ঢেঁঢ়স ৬০-৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া অন্যান্য সবজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে। টমেটোর কেজি কেনা যাবে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে।

এছাড়া গত বছর উত্তাপ ছড়ানো পেঁয়াজের ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। খুচরা পর্যায়ে দেশি ভালো মানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪৫ টাকায়। যেখানে গত বছর এসময় বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। একইভাবে আলুর দাম অর্ধেক কমে এখন ২০-২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের দামে স্বস্তির কথা বলছেন অনেক ক্রেতা। হাসান নামে একজন বলেন, রমজান হিসাবে বাজারে আগে যে হুলুস্থুল পরিস্থিতি থাকতো সেটা এবার নেই। বেশিরভাগ পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে।

সপ্তাহের ব্যবধানে নিম্নমুখী বেশিরভাগ পণ্যের দাম এদিকে রোজা শুরুর কারণে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছিল। এখন আবার কমে ২০০ টাকার মধ্যে এসেছে। পাশাপাশি ডিমের বাজারও নিম্নমুখী। প্রথম রোজায় ফার্মের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা দরে। ডজনে ১০ টাকা কমে গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে। তবে মহল্লার দোকানে কেউ কেউ ডজনে ৫ টাকা বেশি রাখছেন।

এদিকে মোটাদাগে বলতে গেলে এ বছর পবিত্র রমজানে পণ্যের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশ স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে মুদি পণ্যের দাম। রোজা শুরুর আগেই বাজারে অরাজকতা এবার দেখা যায়নি। তবে চালের দাম বাড়তি রয়ে গেছে, সেটা অবশ্য কমেনি। এ বছর এখন পর্যন্ত চিনি, খেজুর, ডালের দাম কম রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ব্রাজিলকে চাপে রেখে ড্র আদায় মরক্কোর

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সঙ্গে পয়েন্ট...

বাজেট ঘোষণার পর একটি পণ্যেরও দাম বাড়েনি: কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন...

৬০ কিমি বেগে দেশের ১০ অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের ১০ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে...

প্লাস্টিক সার্জনদের সংগঠনের শীর্ষ পদে ডা. নাসির উদ্দীন

সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস অব বাংলাদেশের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির...

Recent Comments