নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এই আলোচনা করেন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা।
সভায় সাংবাদিকরা তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ শেয়ার করেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তাব। এটি ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে করার কথা বলা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৪০০ করা হবে। এর মধ্যে ১০০টি আসনে শুধু নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রতি নির্বাচনে এই আসনগুলো পরিবর্তন হবে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের পদমর্যাদা বাড়ানো, কমিশন তিন সদস্যের সীমাবদ্ধ রাখা, এবং কমিশনে সাবেক আমলাদের আধিক্য কমানোর প্রস্তাব আসে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের কথা বলা হয়।
প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয় ‘না’ ভোটের বিধান পুনঃপ্রবর্তন, পোস্টাল ব্যালট সহজীকরণ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনের সইয়ের বিধান বাদ দেওয়া, নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও উঠে আসে।
অতীতে সংবাদ সংগ্রহে গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সমালোচনা করে কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে ২১টি বৈঠক করেছে এবং আইন-বিধি পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। ডিজিটাল মাধ্যমে জনমত গ্রহণের পাশাপাশি লিখিত প্রস্তাবও গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা হবে।
প্রস্তাবনার মধ্যে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি ও মিশ্র নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সংস্কার প্রস্তাবের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগসহ কিছু নিবন্ধিত দল চিঠি না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশন বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলে জানায়।
এ সভার মাধ্যমে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করল নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।


