দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী (পিয়ন) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে। দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই মামলা সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মো. জাহাঙ্গীর আলম তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৮টি ব্যাংকে ২৩টি হিসাব খুলে মোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা জমা করেছেন। এর মধ্যে, ৬২৪ কোটি ৬০ লাখ ১৫ হাজার ৬৭১ টাকা উত্তোলন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অর্থের স্থানান্তর অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের প্রথম পাঁচ মাসে মো. জাহাঙ্গীর আলম তার মালিকানাধীন স্কাই রি এরেঞ্জ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে ১৭৮ কোটি টাকা জমা এবং একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। এসব অর্থের উৎস ও স্থানান্তরের প্রক্রিয়া তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের। দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে।
এই মামলা ও তদন্তের ফলে আলোচনায় আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ব্যক্তিগত সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছিলেন, “আমার বাসার পিয়ন ছিল, সেও নাকি ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না।” এই মন্তব্যের পরই মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তার নামে রাজধানী মিরপুরে বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে বাড়ি এবং ফ্ল্যাটও অন্তর্ভুক্ত।
দুদকের এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তের পর, মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


