শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গোপালগঞ্জ শহরের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ক্যাম্পাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের একাংশের শোভাযাত্রায় পুলিশের বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করে। এরপর, ছাত্রলীগের একটি ছোট অংশ শোভাযাত্রা বের করে ক্যাম্পাস ঘুরে বঙ্গবন্ধু সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধার কারণে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া অনেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং যানবাহন ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রায় বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলা—টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়াসহ জেলার অন্য কোথাও জন্মদিন পালনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে যখন সম্প্রতি গোপালগঞ্জে বেশ কয়েকটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারের হত্যাকাণ্ড, সেনাবাহিনীর ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র লুটের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনার জেরে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার কারণে অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ছাত্রলীগের একটি অংশের শোভাযাত্রার মাধ্যমে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রচেষ্টা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশ তা প্রতিহত করেছে বলে জানান ওসি সাজেদুর রহমান। এই ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরেকটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে সহিংসতা, পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের এমন ঘটনা দলীয় কোন্দল এবং সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


