আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন একটি ছাত্র রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নাম, নেতৃত্ব ও কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুর, আহ্বায়ক কমিটি হিসেবে গঠিত এই দলে ছয়টি শীর্ষ পদ থাকবে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, যা পরবর্তীতে ৩০০-৫০০ জনে উন্নীত করা হতে পারে। এই কমিটিই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই বছরের মধ্যে দলের পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল করার পরিকল্পনা থাকলেও, আপাতত আহ্বায়ক কমিটি নিয়েই দলটি নির্বাচনের দিকে এগোবে।
দলের সম্ভাব্য নাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ‘নাগরিক’, ‘ছাত্রজনতা’ কিংবা ‘রেভ্যুলেশন’ শব্দগুলো থাকতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রতীক নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ‘কলম’ ও ‘শাপলা’ প্রতীকের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। নতুন দলের শীর্ষ পদ নিয়ে কিছু মতানৈক্যের খবরও শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার মাধ্যমে ছয় সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম শীর্ষ দুটি পদে থাকবেন।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, নতুন দলটি সরকারের আনুকূল্যে গঠিত হচ্ছে। দলটির নেতৃত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিলেও, সরকারের আশীর্বাদেই এই দল গঠিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। যদিও দলটির নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কথা বলেছেন। নতুন এই দলটি কেবল ছাত্র নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত, সরকারি আনুকূল্যের অভিযোগ অতিক্রম করে দলটি কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


