রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে আজ সোমবার (৮ জুন) এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বর্তমান পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই খলিলুর রহমানের প্রথম রাশিয়া সফর।
ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনায় উভয় পক্ষ রাশিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এজেন্ডার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এর আগে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন সের্গেই ল্যাভরভ ঢাকা সফর করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা ও মস্কোর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিক। ১৯৭২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তারা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। বিশেষ করে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে সোভিয়েত নৌবাহিনী বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম এবং এর জলসীমাকে মাইন ও ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৈশ্বিক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হচ্ছে এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন সংসদ চালু হওয়ার প্রেক্ষিতে, দুই দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার (পার্লামেন্ট) মধ্যেও পারস্পরিক যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ, এর বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে একটি গঠনমূলক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সফরকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটোম’-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলমান থাকায় রোসাটোমের সাথে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া রুশ ফেডারেশনের ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেল কাউন্সিলের নেতৃত্বের সাথেও খলিলুর রহমানের একটি বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, তিন দিনের এই সরকারি সফরে গত রবিবার (৭ জুন) রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


