শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে হঠাৎ কম্পন শুরু হলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং খোলা জায়গায় ছুটে যান। তবে এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশপাশে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদ গোলাম মোস্তফা। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ চলমান রয়েছে।
ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কেউ কেউ বলছেন, প্রথমে বুঝতে পারেননি কম্পন হচ্ছে, কিন্তু ফ্যান ও দরজা-জানালার নড়াচড়ায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর আগেও একইদিন সকালে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
মিয়ানমারে সম্প্রতি ভূমিকম্পের দাপট বেড়ে গেছে। গত ২৮ মার্চ দেশটিতে ৭.৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটিই গত শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ধসে পড়ে বহু প্রাচীন গির্জা, মন্দির ও আধুনিক ভবন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ, আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ের পরপরই চীন, রাশিয়া ও ভারত দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠায়। পরে বাংলাদেশ থেকেও একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজে অংশ নেয়।
বারবার ভূমিকম্পের এমন ঘটনা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূকম্পন ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমেই কমানো যেতে পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি। বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে নিয়মিত মহড়া ও ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


