সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজ শিশুটি হত্যার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজের ৮ দিন পর ৬ বছরের শিশু মুনতাহার মরদেহ পাওয়া যায়। হত্যার অভিযোগে তার সাবেক গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি এবং নানী কুতুবজান বিবিকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার ভোরে মুনতাহার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখার স্থান থেকে তুলে পুকুরে ফেলার চেষ্টা করছিলেন আলিফজান বিবি। স্থানীয়রা তখন সন্দেহজনক আচরণ দেখে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তারা আলিফজানের হাতে কাদামাটি মাখা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন আহমদ জানান, নিখোঁজের পর স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মার্জিয়ার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। মার্জিয়াকে সন্দেহজনকভাবে থানায় নেয়ার পর স্থানীয়রা তার বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে মার্জিয়ার মা আলিফজানকে অন্ধকারে রাস্তা পার হতে দেখেন স্থানীয়রা। হাতে কিছু বহন করায় তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে আটকানোর পরই মুনতাহার মরদেহ পাওয়া যায়।
আলিফজান পুলিশকে জানান, শিশুটিকে প্রথমে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল এবং পরে পুকুরে ফেলার জন্য মরদেহটি তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। চেয়ারম্যানের মতে, মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া ও তার পরিবারের মধ্যে সম্প্রতি কিছু বিরোধ দেখা দেয়। যদিও হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই বিরোধই হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে।
এ ঘটনার পরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানাচ্ছে। মুনতাহা এলাকার শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল যখন সে নিখোঁজ হয়। তার নিখোঁজের পর থেকে পরিবার এবং স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। মুনতাহার বাবা জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালে তিনি শিশুটিকে নিয়ে একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন এবং বিকেলের পর থেকে শিশুটির কোনো খোঁজ মিলছিল না।
এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তিনজনকেই রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


