Saturday, April 18, 2026
Home জাতীয় মিয়ানমার ও ভারত থেকে এসেছে ৩০ হাজার টন চাল

মিয়ানমার ও ভারত থেকে এসেছে ৩০ হাজার টন চাল

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার চাল আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জি টু জি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে ২৩ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এমভি পিটিভি অ্যারোমা নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল নিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানিকৃত সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে এমভি আলফা মংলা বন্দরে এসেছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব চাল দ্রুত খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এছাড়া, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত আরও ৮,৫০০ মেট্রিক টন এবং ১০,০০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ শনিবার ও রবিবার মংলা বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

চাল আমদানির এই প্রবাহ এর আগেও অব্যাহত ছিল। গত বুধবার ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ৩৭ হাজার মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে এসেছে। এসব চাল খাদ্য অধিদপ্তর আমদানি করেছে, যা সরকারি খাদ্য মজুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি সূত্র জানায়, দেশে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই আমদানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য মজুত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানান উদ্যোগ নিচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তর জানায়, সরকারি গুদামে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে, তবে ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই আমদানি কার্যক্রম চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভালো থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই সরকার আগেভাগেই প্রয়োজনীয় চাল মজুত করে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে কাজ করছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি করা চাল সুষ্ঠুভাবে গুদামে সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি ও ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) মাধ্যমে কম দামে চাল বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।সরকারের এই আমদানি কার্যক্রমের ফলে দেশে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বাজারে মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমবে, যা সাধারণ জনগণের জন্য স্বস্তির বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জ্ঞানভিত্তিক রূপান্তরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

জ্ঞানভিত্তিক রূপান্তরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রিটেইল ফোরাম ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরমের উদ্যোগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর রেডিসন বলু অনুষ্ঠিত হয়েছে...

সরকারের দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ এক অবিস্মরণীয় অর্জন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে এবং এই স্বল্প সময়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ...

বিশ্বজয় করতে প্রস্তুত মেরিটাইম ক্যাডেটরা: নৌ পরিবহণমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের মেরিটাইম ক্যাডেটরা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দক্ষতার...

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান রাখাইন রাজ্যেই সম্ভব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কে অনুষ্ঠিত Antalya Diplomacy Forum 2026-এ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন...

Recent Comments