আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে একাধিক খাতে কর ও শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব আসতে পারে। আজ জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এসব প্রস্তাব ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের দুই বছর ২৫ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হার বহাল রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কর রেয়াতের সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া অন্যান্য শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে।
ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে মোবাইল সিম কার্ডের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট অব্যাহতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
একইসঙ্গে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর মওকুফের প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ডায়ালাইসিস ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা খাত উপকৃত হবে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


