Wednesday, April 29, 2026
Home জাতীয় ভোজ্যতেলের আমদানি বেশি হলেও বাজারে সংকট, নেপথ্যে কারা?

ভোজ্যতেলের আমদানি বেশি হলেও বাজারে সংকট, নেপথ্যে কারা?

রমজানকে সামনে রেখে দেশের বাজারে আবারও ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর এক লাখ টনের বেশি তেল আমদানি হয়েছে, তবুও খুচরা বাজারে সংকট তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা হলেও বাজারে তা ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক খুচরা বিক্রেতা বোতলজাত তেল খুলে ড্রামে রেখে খুচরা বিক্রি করছেন, যেখানে এক লিটার খোলা তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৫৭ টাকা, অথচ বাজারে তা ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সরবরাহ সংকটের কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫-৬টি প্রধান তেল সরবরাহকারী কোম্পানি জোটবদ্ধভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ২০ কার্টনের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২-৪ কার্টন সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্য মূল্যে তেল কিনতে পারছেন না এবং তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে রমজানে চাহিদা থাকে ৩ লাখ টন। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ৭০ হাজার টন তেল আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। তারপরও সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “এটি একটি সুপরিকল্পিত কারসাজি। গত বছরও আমরা দেখেছি, যখন দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দেয়, তখন তারা সরবরাহ সীমিত করে দেয়। সরকার দাম বাড়ালেও তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে না। এবারও ঠিক একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করছে, বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সংকটের কোনো কারণ নেই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, সরবরাহ সংকুচিত করেই বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। অন্যথায় রমজানে ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

এই প্রতিবেদনটি বর্তমান ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে এবং সংকটের সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করে। আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট দিক পরিবর্তন করতে চান, জানাতে পারেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ডাচ বাংলা ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের...

আইপিডিসির মুনাফা বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ

বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য বছরে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায়...

সি পার্লের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সি পার্ল বিচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা লিমিটেড চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (২৮...

কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৭৫তম সভা অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান...

Recent Comments