ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানান আলোচনা। গত ৫ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আড়াই শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে তার মতামত দিয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক ‘গার্নিকা ৩৭’ ল ফার্মের এই আইন বিশেষজ্ঞ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাদের উচিত হবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো।”
ক্যাডম্যান আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের হলেও কিছু জায়গায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।”
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন এবং রিকোয়েস্ট পাঠানো হলে, ভারত বিষয়টি বিবেচনা করবে। যদি তা না ঘটে, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি ভাবতে পারে।”
মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশ মৃত্যুদণ্ডের কারণে অভিযুক্তদের ফেরত দিতে চায় না। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা আলাদা। বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতই নির্ধারণ করবে মৃত্যুদণ্ড হবে কি না। অন্য দেশগুলোকে এই বাস্তবতা বুঝতে হবে।”
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্যাডম্যান বাংলাদেশে এসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও আইনব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


