বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, “আমাদের অন্যতম লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে কাজ করছেন। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগ, শ্রম বাজার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক নিতে চায়, যা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তলানিতে থাকা সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
দেশ থেকে অবৈধ অর্থপাচার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, গবেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।তিনি জানান, আইসিটি খাতে দুর্নীতির তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে, যা দুই মাসের মধ্যে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকরা ৫৩ বছরে সবচেয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করছে।তিনি সিপিজে-কে বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রেস সচিব বলেন, “খুনি ও দুর্নীতিবাজদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল।”


