দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) রেড নোটিশ জারি করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও পুলিশ সদর দফতরের সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল এই রেড নোটিশ জারি করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার একটি আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারপোল জরুরি ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
তবে এখন পর্যন্ত ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে রেড নোটিশটি প্রকাশিত হয়নি। এনসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে দুদক ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী জিশান মির্জা এবং দুই কন্যার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আদালত বেনজীরের স্ত্রী ও ছোট মেয়ের আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দের নির্দেশ দেয়। এরপর ১৩ জানুয়ারি বেনজীর ও তার বড় মেয়ের আয়কর নথিও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, শুধু বেনজীর নয়, চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দেশত্যাগকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ চাওয়া হয়েছে। এই আবেদন বর্তমানে ইন্টারপোলের আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ আরও অনেকে।
এই পদক্ষেপগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয় কি না।


