অব্যাহত বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে হঠাৎ করেই। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম ও বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাজেহাল অবস্থায় ফেলেছে। আগের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চালও।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৫–২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৫৫-৬০ টাকা। ফার্মের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৩৫-১৪০ টাকায় উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। ডিম, ডাল, পাম তেলসহ ১২ ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে একই সময়ে। তবে আলু ও আটার দাম কিছুটা কমেছে।
ফার্মের ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ টাকা, বর্তমানে মাঝারি মানের ডাল ১৩৫ টাকা এবং ছোট দানার ডাল ১৪৫-১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও আগুন। টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০-২৮০ টাকা। বাজারে সবচেয়ে সস্তা সবজি পেঁপে, কেজিপ্রতি ২০ টাকা। মাছের বাজারে ইলিশের দাম নাগালের বাইরে—প্রতি কেজি ২,৬০০-২,৯০০ টাকা।
বিক্রেতাদের দাবি, পাবনা ও ফরিদপুরের মোকামে পেঁয়াজের দাম মণপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, সরবরাহব্যবস্থার ঘাটতি ও মৌসুমি প্রভাবের কারণে বাজার অস্থিতিশীল। বর্ষা ও বন্যার সময় নিত্যপণ্যের ঘাটতি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে। তার মতে, সরকারের এখনই পণ্যের চাহিদা-জোগান ভারসাম্য আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।


