চলমান অর্থনৈতিক সংকটে ধীরগতির প্রকল্পগুলো থেকে ৬৭০ মিলিয়ন ডলার অন্যান্য খাতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাজেট সহায়তা ও নতুন প্রকল্পে অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তায় ব্যয় হবে, আর বাকি অর্থ নতুন প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গত সপ্তাহে এ প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের একজন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ধীরগতির প্রকল্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো—উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন, পরিবেশগত টেকসই রূপান্তর, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প, এবং টেকসই বন ও জীবিকা উন্নয়ন। ১১টি প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক তিন দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করলেও, বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৬৬১ দশমিক আট মিলিয়ন ডলার। বিশেষত সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে ৩৫৮ মিলিয়ন ডলার অনুমোদিত হলেও, প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক শতাংশ। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার উন্নতি। তবে বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ প্রকল্প থেকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার অন্য খাতে খরচের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প, যা ২০১৯ সালে চালু হয়, সেখান থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হবে। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি কম থাকায় ঋণের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা শহরের চারটি এলাকায় নাগরিক সুবিধা বাড়াতে নেওয়া ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রকল্প থেকে ২২ মিলিয়ন ডলার অন্য খাতে খরচের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই অর্থ স্থানান্তরের উদ্যোগ দেশের আর্থিক চাপ মোকাবিলা এবং দ্রুত ফলপ্রসূ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।


