বিএনপি নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবিতে ৬৪ জেলার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ছয়টি জেলায় সমাবেশ আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনের দাবি তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে। বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দেশে কোনো পরিবর্তন নেই, সবকিছু আগের মত চলছে। বাজার ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট এখনো চলছে, কিন্তু সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।” গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নির্বাচনের জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করার পক্ষেও নন এবং দাবি করেন, “সরকারের একাধিক ব্যর্থতার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।”
এদিকে, খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের মধ্যে অনেকেই আগের শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী ছিল, যারা দেশ পরিচালনায় অদক্ষ।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সংস্কার কেবল নির্বাচিত সরকারই করতে পারে, অন্যরা নয়।” সুনামগঞ্জে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। বিকেলে সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পটুয়াখালীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি বলছে, তাদের দাবি হলো নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রুত নির্বাচন।
বিএনপি নেতারা সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংস্কার নামে কালক্ষেপণ না করে, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুক।”


