সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি বিবেচনায় বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ নৈশভোজ হয়, যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
এবার এ আয়োজন বাতিল হওয়ায় সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আপ্যায়ন খরচ ‘কাটছাঁট’ করা হয়েছে বলে তথ্য দেন রুমন।
এদিন জাতীয় সংসদে একাধিক সংশোধনীর পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে।
অধিবেশনের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাফতরিক কাজ সারার পাশাপাশি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন বলেও তুলে ধরেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খরচ ‘কাটছাঁট’ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।”
আগে পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবারহ করত। বিগত সরকারের সময়ে করপোরেশনের কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়েছে গেছে; যা বর্তমান সরকারকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও ভাষ্য তার।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা।
“এছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।”


