বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের ২২ জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে (বৃহস্পতিবার) ডিসেম্বর ১২, রাজধানীর লা মেরিডিয়ান গ্রোটলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সি-স্যুট আওয়ার্ডসের তৃতীয় অধিবেশন। ইউনাইটেড গ্রুপ এর সৌজন্যে, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (বিএসআরএম) এর সঞ্চালনায় এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, এর সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ ব্যাদ্দ ফোরাম এই ফ্ল্যাগশিপ উিদ্যোগটি আয়োজন করে। এই বছর ২৪টি বিভাগে বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেস্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘দুরদর্শী নেতৃত্ব নতুন সুযোগ তৈরি, চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। লিডারশিপ সামিট এবং বাংলাদেশ সি-স্যুট অ্যাওয়ার্ডসের মতো আয়োজন গুলো উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি সকল বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারীদের তাদের ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য অভিনন্দন জানাই এবং অন্যান্য সকলকে উৎসাহিত করছি একটি উদ্ভাবনী ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবার জন্য।”
এই বছর, বাংলাদেশের বাবসায়িক খাতের বৈচিত্র্যময় এবং গতিশীল প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে ৩৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশিষ্ট উপদেষ্টী বোর্ড নিবিড়ভাবে মনোনয়ন গুলো পর্যালোচনা করে বিজয়ীদের বাছাই করেন।
বাংলাদেশ সি-স্যুট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ এর পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ফ্লনারশিপ উদ্যোগ, ৮ম লিডারশিপ সামিট। লিডারশিপ সামিটের এবারের থিম ছিলো “ইনোভেট, ইন্সপায়ার, লিড দ্য পাথ টু ৫০ গ্রোথ।
আয়োজনটির উদ্বোধনী বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব শুধু আকাঙ্খা নয়। প্রয়োজন। লিডারশিপ সামিট এবং বাংলাদেশ সি স্যুট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ সাহসী স্বপ্নদর্শীদের উদযাপন করে যারা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বকে অনুপ্রাণিত করার সাথে সাথে পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকা ব্যক্তিদের সম্মান জানাই । একসাথে আসুন আমরা উদ্ভাবন ও সততার সাথে নেতৃত্ব পদান করি এবং জাতির জন্য টেকসই এবং রূপান্তরকারী বৃদ্ধির পথ তৈরি করি।”
এবারের সামিটে দুটি কিনোট সেশন ও ১টি প্যানেল ডিসকাশন ছিল, যেখানে বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার জন্য তুলে ধরেছেন নিজ নিজ জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা।
প্রথম কি নোট সেশনটি পরিচালনা করেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পাশা মাহমুদ। বিজনেস ৫০ আনলকিং এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোয় অপারচুনিটিস’ শীর্ষক প্যানেল ডিসকাশন টি পরিচালনা করেন পেগঞ্জোদ মুনিম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর, নিনকে বাংলাদেশ লিমিটেড; এবং মেন্টর, লিডারশিপ একাডেমি। প্যানেলিস্টদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, টিম গ্রুপ, হাসান জাফর চৌধুরী, টিফ অপারেটিং অফিসার, বাংলাদেশ স্টিল রি রোলিং মিলন লি, এবং মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, গ্রুপ ডিরেক্টর, রহিমআফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেও।। দ্বিতীয় কিনোট সেশনটি উপস্থাপন করেন টেরি (ভারিন) আনোয়ার, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও, জে গেইনস অ্যান্ড কোম্পানি।
সামিটটির মূল অংশে বক্তারা নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ, টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতি গঠনসহ বহুমুখী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের আলোচনা শ্রোতাদের অনুপ্রাণিত করে তুলেছে।
৮ম লিডারশিপ সামিট এবং ৩য় বাংলাদেশ সি স্যুট অ্যাওয়ার্ডস, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ, সৌজন্যে- ইউনাইটেড গ্রুপ, সঞ্চালনায়- বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (বিএসআরএম) এবং সম্পৃক্ততায়- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। নলেজ পার্টনার- মার্কেটিং সোসাইটি অফ বাংলাদেশ (এমএসবি); একাডেমিক পার্টনার বিবিএফ একাডেমি: টেকনোলজি পার্টনার- আমরা টেকনোলস্ট্রিস লিমিটেড, পিআর পার্টনার- ব্যাকপেজ পিআর।


