প্রবীণদের জন্য বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সেবাদানকারী একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ রিটায়ারমেন্ট হোমস এন্ড হসপিটালের যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকার পূর্বাচলের পাশে রূপগঞ্জে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি প্রবীণদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা এবং বিনোদনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান করবে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) অধ্যাপক ডা. সরদার নাঈমের মাতা রাজিয়া কাদের এবং অধ্যাপক আশা ইসলাম নাঈমের পিতা অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি জাপান থেকে আগত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত, যা প্রবীণদের জন্য অত্যাধুনিক সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি বহন করছে। এটি প্রবীণদের জীবনের মান উন্নয়ন এবং সুরক্ষিত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রবীণবান্ধব ২৩২ টি স্টুডিও এপার্টমেন্ট, বিছানা কেন্দ্রিক অসুস্থ প্রবীণ বা হুইল চেয়ার কেন্দ্রিক প্রবীণদের জন্য ১৫০ শয্যার কেয়ার সেন্টার, মৃত্যুপথযাত্রী প্রবীণদের জন্য ৮০ শয্যার পেলিয়েটিভ কেয়ার, টার্মিনাল কেয়ার ও হসপিস কেয়ারের ব্যবস্থা, রয়েছে সকল সুবিধা সম্বলিত বিশ্ব মানের প্রবীণ হাসপাতাল, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ডে-কেয়ার সেন্টার, মানসিক ও আত্নিক সুস্থতা নিশ্চিত করবার জন্য প্রার্থনা, যোগব্যয়াম, ধ্যান ইত্যাদি সুবিধাসহ স্পিরিচুয়াল ওয়েলনেস সেন্টার। এছাড়াও রয়েছে সুইমিং পুল, জ্যাকুজি, স্টিম বাথের ব্যবস্থা। প্রবীণদের বিনোদনের জন্য রয়েছে লাইব্রেরি, মুভি থিয়েটার, রিভার ক্রুজ ও নানা ধরনের ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা।
এক কথায় বলতে গেলে সব বয়েসি প্রবীণ ব্যক্তির চাহিদা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দেশের স্বনামধন্য ল্যাপরোস্কোপিক সার্জন অধ্যাপক ডাঃ সরদার নাঈম। তিনি বলেন, তিনি আজ থেকে ৩২ বছর আগে পড়াশোনা শেষ করে জাপান থেকে দেশে ফিরে তিনি তৈরি করেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল। তখন থেকেই প্রবীণদের নিয়ে দেশে একটা কিছু করার পরিকল্পনা ছিলো, আজ সে পরিকল্পনা বাস্তবে রুপ নিলো, তিনি আশা করেন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়নে ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখবে।


