আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১২ দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নির্দেশনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সেবাগ্রহীতাদের সঠিক এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
প্রধান বিচারপতির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণবিধি (কোড অব কনডাক্ট) যথাযথভাবে মেনে চলা, দায়িত্ব পালনের সময় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বর্জন, সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান করা, সহানুভূতিশীল আচরণ করা, এবং প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করা। এছাড়া, প্রতিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার কথাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেছেন যে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য অতিরিক্ত রেজিস্ট্রাররা প্রতি চার সপ্তাহে একবার আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারদের কাছে প্রতিবেদন দেবেন। সেবা প্রদানে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করেন বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের প্রতি সদাচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ হিসেবে কাজ করবে। সুপ্রিম কোর্টের সেবা প্রদান ব্যবস্থার উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আদালতের নিয়ম-কানুন, প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ও বিভিন্ন সময়ে জারি করা সার্কুলার অনুসরণ করা আবশ্যক।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৩৮টি এবং আপিল বিভাগে ১৯টি শাখা রয়েছে, যেখানে প্রায় ২,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।


