সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈশ্বিক এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছেন। প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দাভোসে বিশ্বের বড় বড় বেসরকারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সেখানে ছোট পরিসরে হলেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও চুক্তি সম্পন্ন হয়। ড. ইউনূস ইতোমধ্যে ১০টি দেশ ও সংস্থার হেড অব গভর্নমেন্ট এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি বলেন, “দাভোসে বড় বড় কোম্পানির সিইওরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তারা বাংলাদেশের ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। আমরা বারবার বলছি যে বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে আরও সহজ করবে।” ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, তুরস্ক এবং চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি যুবশক্তি ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশকে দেশের অন্যতম সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে তাদেরকে বাংলাদেশকে এক্সপোর্ট হাবে পরিণত করার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। প্রেস সচিব জানান, “প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। তার বৈঠকগুলোতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এসব বৈঠক থেকে বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসবে।”
এছাড়া ড. ইউনূস জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলারের প্রধান উলফগ্যাং শ্মিট, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটংটার্ন সিনাওয়াত্রা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরতে ড. ইউনূসের এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


