ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ের পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন তারেক রহমান। জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সরকারের কার্যক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। শপথের পরদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদ। পরে তিনি বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর কবর জিয়ারত করেন।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিন অগ্রাধিকার
শপথের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। আশু করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়—
-
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
-
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা
-
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে এবং সেই অগ্রগতির ভিত্তিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের ইঙ্গিত দেয়।
ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার
ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্প চালুর লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ সুলভ মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করবে।
কৃচ্ছ্রসাধন ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, নিজ অর্থে জ্বালানি ব্যয় বহন এবং নিরাপত্তা বহর ১০টির বেশি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত আলোচনায় এসেছে। এছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি ও প্লট সুবিধা না নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীর চাপ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ
রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সেনাবাহিনী প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
দ্বিতীয় কার্যদিবসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পরে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়ম-সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


