বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন একটি খসড়া আইন আলোচনায় এসেছে, যা ২০২৪ সালের ইসলামী ব্যাংক-কোম্পানি আইন হিসেবে পরিচিত। এই খসড়া আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামি ব্যাংকিং চালিয়ে যেতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল, প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরির। বর্তমানে দেশে ৩০টি প্রচলিত ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে তাদের শাখা এবং উইন্ডো দিয়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায়, ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে পৃথক কার্যক্রমে যুক্ত হতে হবে বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোকে তাদের ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করতে হবে বা শরিয়াহভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। যদি ব্যাংকটি ইসলামী ব্যাংকিং চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাকে ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী ইসলামি ব্যাংকিং একটি সাধারণ প্রথা হলেও, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খসড়ার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে দেখা দিয়েছে। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং শুরু হওয়ার পর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের প্রায় ২৩.৬৫ শতাংশ, আমানতের ২৬.২৩ শতাংশ এবং বিনিয়োগের ২৮.২৪ শতাংশ পরিচালিত হচ্ছে। যদিও, কিছু শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক অনিয়ম এবং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, প্রচলিত ব্যাংকগুলো যদি ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়, তাহলে প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য সমান সুযোগ থাকবে না। এই আইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য শরিয়াহ উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করবে এবং ব্যাংকগুলোকে যে ব্যবসায় শরিয়াহ অনুমোদন দেয় না, সেখানে ইসলামি ব্যাংক জড়িত হতে পারবে না।
বিভিন্ন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা এ আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি আইনের খসড়াকে স্বাগত জানান, তবে মনে করেন, বর্তমান সময়ে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপানো উচিত নয়। তার মতে, যদি আলাদাভাবে হিসাব রাখা যায়, তবে ইসলামি ব্যাংকিং চালানোতে কোনো সমস্যা নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মাইন উদ্দিনও একমত, আইনটি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে তিনি মনে করেন, প্রতিযোগিতা বাড়ানো হলে সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
এই আইনের কার্যকরণের পর, ব্যাংকগুলোকে তিন বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে পরিবর্তন আনতে বা এটি বন্ধ করতে হবে।


