গত ৩ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৬০৮ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিটগুলো পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে অংশ নেয়।
এই অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, পলাতক আসামি, চাঁদাবাজ, ডাকাত, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২৯৫ রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, চোরাই মোবাইল, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, জালনোট, বৈদেশিক মুদ্রা এবং নগদ অর্থ। পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনী গণপরিবহন টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে টহল, মাইকিং এবং কালোবাজারি রোধে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সুষ্ঠু টিকিট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে মহাসড়কে বিকল্প রুট, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পার্কিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। রোড ব্লক এড়াতেও সেনা সদস্যরা দিনরাত কাজ করেছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী বিভিন্ন বিপণিবিতান ও প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা প্রদান করে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করতে অভিযান চালিয়ে কারখানা সিলগালা করা হয় এবং রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী, বাসন্তী পূজা ও পূণ্যস্নানের সময় পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।


