যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার ২০২৪ সালের সেরা ১০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তাকে “জাতির নির্মাতা” হিসেবে উল্লেখ করে, নেচার লিখেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, যা তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নেচার ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ড. ইউনূসের কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক অর্জনের কথা তুলে ধরে। তালিকায় রয়েছেন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে স্বীকৃত বিজ্ঞানী, গবেষক ও চিন্তাবিদরা। ড. ইউনূসের নাম এখানে বিশেষভাবে আলোকিত হয়েছে তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বিক্ষোভমুখর পরিস্থিতিতে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর, বিপ্লবী ছাত্রসমাজের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. ইউনূস। নেচার উল্লেখ করেছে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
১৯৪০-এর দশকে ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ড. ইউনূস, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকা রাখেন। তার সবচেয়ে বড় অবদান ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তন। ১৯৭০-এর দশকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সময় তিনি এই ধারণার পরীক্ষা করেন। দরিদ্র নারীদের জন্য স্বল্প সুদের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে তিনি দেখিয়েছেন, এটি কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর হতে পারে।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত তার গ্রামীণ ব্যাংক শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণের মডেল হিসেবে সমাদৃত। তবে, ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার সমালোচনাও রয়েছে, যেখানে উচ্চ সুদে দরিদ্রদের শোষণ করা হয়। কিন্তু ড. ইউনূস যৌক্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, এই মডেল কীভাবে জীবন বদলাতে পারে।
নেচারের তালিকায় আরও রয়েছেন চীনের ভূতত্ত্ববিদ লি চুনলাই, রাশিয়ান গবেষক আনা আবালকিনা, মার্কিন জ্যোতির্বিদ ওয়েন্ডি ফ্রিডম্যান এবং সুইস আইনজীবী কর্ডেলিয়া বার্ক। তবে ড. ইউনূসের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, তার মানবিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাধারা কীভাবে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক উন্নয়নে পথপ্রদর্শক হতে পারে।


