মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি সম্পন্ন করা যায়, তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, যদি জাতীয় ঐকমত্য এবং নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আরও গভীর সংস্কার করতে হয়, তাহলে নির্বাচনের সময়সূচী পিছিয়ে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চলে যেতে পারে।
ড. ইউনূস নির্বাচন আয়োজনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দিকে। তিনি বলেন, এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন এবং গত তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর এবার বহু তরুণ-তরুণী প্রথমবারের মতো ভোট প্রদান করবেন, যাদের পূর্বে এই সুযোগ ছিল না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের ভোটদানকারীরা ১০০ শতাংশ ভোটদান করবে এবং এটি একটি ঐতিহ্য হয়ে উঠবে।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের সকল রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানান, যেন তারা সকলে মিলে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সাহস পাবে না।
নির্বাচনের আগে, নতুন ভোটারদের পাশাপাশি পুরোনো ভোটারদের তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি ভোটার তালিকা যাচাই করতে এবং ভুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে গুরুত্ব আরোপ করেন।
সর্বোপরি, ড. ইউনূস নির্বাচনের সময় নির্ধারণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যা জাতীয় ঐকমত্য এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।


