বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক দেশবাসীর কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “অনতিবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে”। ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এই দাবি জানান তিনি। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি নিয়ে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে জয়নুল আবদিন বলেন, “দেশের জনগণ আজ কঠিন সংকটে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের সরকার ছাড়া এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার প্রয়োজন এবং অবিলম্বে নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে।
এ সময় তিনি অতিরিক্ত জোর দিয়ে বলেন, “আবু সাঈদ এবং মুগ্ধের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই স্বাধীনতার সম্মান রক্ষা করতে, আর বিলম্বিত না করে, আপনাদের নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে।”নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি বলেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সংস্কারের প্রক্রিয়া অবশ্যই চলবে। তবে, ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, তা হতে হবে একটি উদাহরণ।” তিনি ১৯৯১ সালের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন, যার ফলে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জয়নুল আবদিন আরো বলেন, “এত বড় সংস্কারের প্রয়োজন নেই, তবে জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে, এমন একটি সংস্কার প্রয়োজন।” তিনি জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছেন।
এছাড়াও, সমাবেশে অন্যান্য নেতারা তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সমাধান এবং নির্বাচনকালীন সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তৃতার শেষে সবাই একসঙ্গে দাবি জানান, অতিদ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার জন্য। এই সমাবেশে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী এবং সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


