জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলীয় নেতা আজহারুল ইসলামকে মুক্তি না দিলে তিনি নিজেকে স্বেচ্ছায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠাতে প্রস্তুত। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক পথসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আজহারুল ইসলামের মুক্তি মানেই ন্যায়বিচারের বিজয়। একজন মজলুম নেতাকে কারাগারে আটকে রেখে রাষ্ট্র গণতন্ত্রের পথ বন্ধ করে রেখেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। তবে আজহারুল ইসলাম মুক্তি না পেলে, আমি নিজেই নিজেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে কারাগারে যাব।”
সোমবার সকালে জামায়াত আমির শহীদ বেলালের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ২০১৪ সালে মতিউর রহমান নিজামীর শাস্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শহীদ বেলাল। তার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বেলালের রক্ত বৃথা যায়নি। তার মতো শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামী চেতনাকে আরও দৃঢ় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। টানা ১৫ বছর ধরে আমরা অত্যাচার সহ্য করছি। কিন্তু আমাদের ছাত্রদের নেতৃত্বেই এই নির্যাতনের জবাব দিতে হবে। যুবকরা যদি দেশপ্রেম ও আল্লাহর ভয় নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে তারা সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অটল পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে।”
জামায়াত আমির বলেন, “যে সমাজের যুবকরা পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসে, সেই সমাজে বিপ্লব ঘটে। আমি তরুণদের দুটি গুণ অর্জনের আহ্বান জানাই—একটি গভীর দেশপ্রেম এবং অপরটি আল্লাহভীতি। এই গুণাবলী থাকলে কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।” শরীয়তপুরের নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদ, জেলা আমির অধ্যক্ষ মুহা. আব্দুর রব হাশেমী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।ডা. শফিকুর রহমানের এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক মহল ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছে। অনেকে মনে করছেন, এটি জামায়াতের নতুন কৌশল, যা দলটির বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


