দক্ষিণ আফ্রিকার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার আনিল সুকলাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর যদি নতুন কোনো দেশে দূতাবাস খোলা হয়, তবে সেটি হবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা বাংলাদেশ সফরে এসে দূতাবাস খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার আমরা সরকারের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ঢাকায় দূতাবাস চালু করব।”
ঢাকায় এক সাক্ষাৎকারে হাইকমিশনার সুকলাল জানান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভৌগোলিকভাবে দূরে হলেও উভয় দেশের সংকট প্রায় একই—দারিদ্র, অনুন্নয়ন, বেকারত্ব ও বৈষম্য। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে চায় তারা।
তিনি বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের কারণে বহু বছর ধরে জাতিগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, সমস্যার মূল শেকড়ে গিয়ে কাজ করাই সমাধানের পথ। বাংলাদেশও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তাই সহযোগিতা সম্ভব।”
দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করতে শিগগিরই উচ্চ পর্যায়ের সফর আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান সুকলাল। এই সফরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের ওষুধ, পোশাক ও কৃষি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক চাই না, চাই একটি উইন-উইন পরিস্থিতি। বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, রেডিমেড গার্মেন্টস ও কৃষি খাতে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। এখানে বিনিয়োগে আমরা আগ্রহী এবং পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকাতেও বাংলাদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।”
ঢাকা-কেপটাউনের দূরত্ব প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার হলেও সুকলাল মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সফরের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ চুক্তি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম শুরু হবে।
হাইকমিশনার বলেন, “বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্ককে শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমরা চাই, এটি বাস্তব অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বে রূপ নিক।”


