ঢাকাবাসীর মাথাপিছু বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার ১৬৩ ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ছয় লাখ টাকার বেশি। রাজধানীবাসীর এই আয় দেশের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটি জানায়, দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে ঢাকার অবদান ৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে অনানুষ্ঠানিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার অনেক সময় জিও-ইকোনমিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নীতিনির্ধারণ করে, কিন্তু সেগুলোর অনেকই বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা ইপিআই চালু করেছি।’ ইনডেক্সে দেখা যায়, উৎপাদন খাতে ঢাকার অবদান সবচেয়ে বেশি—৫৫.৫৮ শতাংশ। সেবা খাতে অবদান ৪৪.২ শতাংশ।
এসএসজিপির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশির ভাগ সুবিধা ব্যবহার করেছে। এখন পরবর্তী সময়ের জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন বলেন, ‘বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে পারলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য উভয়ই বাড়বে।’ বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের গবেষণার সমন্বয় করা জরুরি। এতে খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ আরো সমৃদ্ধ হবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসএমইএসপিডি) নওশাদ মোস্তফা বলেন, ‘এসএমই খাতে ঋণ প্রাপ্তিতে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ আরো কার্যকর হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. সালিম আল মামুন বলেন, ‘পরবর্তী পর্যায়ে জেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কৃষি খাতের তথ্য জরুরি। তাই এটিকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত ফর্মুলা ব্যবহার করলে ফলাফল আরো নির্ভরযোগ্য হবে। এ ছাড়া এই গবেষণার সারসংক্ষেপ কোনো স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’


