প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন, যেখানে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, জনসেবার স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত চিঠি ডিসিদের কাছে পাঠিয়েছে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং জমির নামজারি বা রেজিস্ট্রেশনসহ জনগণের সব সেবা হয়রানিমুক্ত ও দুর্নীতিবিহীন পরিবেশে নিশ্চিত করতে হবে। ডিসিদের দায়িত্ব পালন করতে হবে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রশংসা বা স্তুতিবাক্য পরিহার করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ সব ধরনের সরকারি সেবায় জনগণের হয়রানি বন্ধ করতে হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তদবির ও রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে।
চিঠিতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে ডিসিদের কার্যক্রম সরকারের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ডিসিদের জন্য এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। তাদের কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে এবং প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে প্রধান উপদেষ্টার এই নির্দেশনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
সরকারের এই নির্দেশনার ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে ডিসিদের যথাযথ দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনোভাব জরুরি।


