সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্তকরণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমরা রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আশাবাদী। সরকার এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মতামত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট জাতীয় নাগরিক কমিটি গত ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে চেয়েছিল। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার তখন নিজ উদ্যোগেই একটি ঘোষণাপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে আন্দোলনকারীরা সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এক সর্বদলীয় সংলাপের আয়োজন করেন। সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের মতামত উপস্থাপন করে। তবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় তখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামত চিঠির মাধ্যমে পাঠানোর আহ্বান জানায়। এই সময়সীমার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বরাবর বিভিন্ন পক্ষ তাদের প্রস্তাব পাঠায়। এ বিষয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র কেবল একটি নীতিগত দলিল নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথনির্দেশক হতে পারে। তাই রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকল মতামত পর্যালোচনা করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হতে পারে। তবে, আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো বলছে, সরকার যদি তাদের দাবিগুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে, তাহলে তারা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। এই পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপোষ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


