রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করতে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৪তম দিনের আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান।
আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, এনসিপি, লেবার পার্টিসহ একাধিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। আজকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের প্রস্তাব, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং নারীদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের সময় খুব সীমিত। সফলতার একমাত্র মানদণ্ড হলো, কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আমরা কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি। সময় চলে গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসবে।” তিনি উল্লেখ করেন, গত আলোচনাগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কিছু অবস্থানগত নমনীয়তা দেখাতে হবে দলগুলোর।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সনদ তৈরির কাজটা আলাদা কারও একক দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার যৌথ উদ্যোগ। কমিশন কোনো উচ্চমার্গীয় কর্তৃপক্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।” একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, “ব্যর্থতা হলে সেটি হবে সবার ব্যর্থতা। তাই আমাদের সামনে এখন আর ব্যর্থতার সুযোগ নেই।”
কমিশনের এই সংলাপে অংশগ্রহণকারী নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদান করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি, নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য আনার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন।
ড. আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন, জুলাই মাসের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সনদ গঠন করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


