বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সম্প্রতি একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে উচ্চকক্ষ বা সিনেটের ৭৬টি আসনের কথা বলা হয়েছে এবং এসব আসনের প্রতিনিধিরা হবেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।
সোমবার (১৪ জুলাই) কমিশনের দ্বিতীয় দফার সংলাপের ১৩তম দিনের অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে অংশ নেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের ৬৪টি জেলা এবং ১২টি সিটি করপোরেশনকে একেকটি পৃথক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যাবেন উচ্চকক্ষে।
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সঙ্গে সমন্বয় করে একই সময়েই উচ্চকক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সিনেট জাতীয় আইনসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে কাজ করবে। তারা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পর্যালোচনামূলক দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে
প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ কেবল আইন পাসে নয়, বরং জাতীয় নীতিমালা, আর্থিক বাজেট এবং সাংবিধানিক সংশোধনীর ক্ষেত্রেও মতামত ও অনুমোদনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবে। এটি একটি পরিপূর্ণ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে সংবিধান সংস্কার কমিশন উচ্চকক্ষের নাম প্রস্তাব করেছিল ‘সিনেট’। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ বিষয়ে অধিকতর মতামত গ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গঠনমূলক রূপরেখা তৈরি করছে।
নতুন এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলছে, এই কাঠামো বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধনসহ বিস্তৃত আলোচনা ও গণসংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। তারা মনে করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হলে এই ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে।
এখন কমিশনের এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদে কতদূর অগ্রসর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


