২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের খালাস নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ শেষে এই আদেশ দেন।
শুনানির শুরুতেই আদালত মামলার পলাতক দুই আসামি—মহিবুল্লাহ হানিফ ও মুনিরুল ইসলাম তাজউদ্দিনের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “এমন স্পর্শকাতর মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবী না থাকা দুঃখজনক।” পরে আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ করা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন এবং মামলার গুরুত্ব, ন্যায়বিচার ও ভুক্তভোগীদের প্রাপ্য বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সব আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে তাদের খালাস প্রদান করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ‘লিভ টু আপিল’ করে, যা গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ। তবে হাইকোর্টের রায় এখনো স্থগিত করা হয়নি।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ৩০০ জন। ওই হামলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশের মানুষ ও রাজনীতি সচেতন মহল।


