খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। জুন-জুলাইতেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সময়ের আগেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মাঝে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার রোগীদের শরীরে নতুন ধরনের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, ঝিনাইদহ ও মাগুরা ডেঙ্গু ঝুঁকির শীর্ষে। ঝিনাইদহে ২৭০টি বাড়ির মধ্যে ৬০ শতাংশেই এডিস মশার লার্ভা মিলেছে, যা ভয়াবহ আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়। মাগুরায় এই হার ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ এসব জেলায় কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের মতো উপকূলীয় এলাকায় মানুষ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেন ড্রাম, ডেগ কিংবা ট্যাংকে—যা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরগুনা জেলায় সংরক্ষিত বৃষ্টির পানিই ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগী চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিছানার জন্য হাহাকার করছেন স্বজনরা। রোগীরা জানাচ্ছেন, জ্বরের পাশাপাশি শরীর কাঁপুনি, বমি ও চরম দুর্বলতা—নতুন উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ অত্যন্ত দুর্বল। প্রস্তুতির অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার ডেঙ্গুর যে ধরন (সেরোটাইপ) দেখা যাচ্ছে, তা ডেঙ্গু ওয়ান হতে পারে। এই ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় কেবল লার্ভিসাইড স্প্রে যথেষ্ট নয়—চাই সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, প্রতিটি জেলাকে জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।


